শিক্ষকের ঋণ
মোঃ বুলবুল হোসেন
যে হাতে ধরাই কলম, সে হাতেই বাজে সুর,
শিক্ষকের পাঠে জাগে প্রাণে আলো-ভরা নূর।
ভুল হলে বকতেন তিনি, তবু রাখতেন মায়া,
কথায় কথায় জাগিয়ে দিতেন এগিয়ে চলার ছায়া।
প্রথম অক্ষর গাইতো যখন কাঁপা সুরের গান,
তিনি বলতেন— “চেষ্টা রাখো, দিয়ে মনো প্রাণ।
খাতার পাতায় ভুলের নাচে মন যখন হত ভার,
বলতেন— “শিখে যাও ধীরে, ভুলে শেখা আবার।
যারা ভুলে যায় সেই মুখ, তারা পথ হারানো,
শ্রদ্ধাহীন হৃদয় তাদের অন্ধকারে মানানো।
মানুষ হতে হলে লাগে সম্মানের বীজ,
শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসাই সেই জীবনের রীজ।
চকের গন্ধে লেখা স্মৃতি বাজে আজো মনেতে,
শ্রেণিকক্ষের বাতাস যেন গান তোলে বইয়ের পাতাতে।
তিনি শিখিয়েছিলেন— “মানুষ হও, ভদ্র থাকো সদা,
অহংকারে ভাসবে না মন, সত্য রাখো সাদা।
জীবনের প্রতিটি বাঁকে তাঁর কণ্ঠের ডাক,
সুরের মতো বেজে ওঠে— “হাল ছেয়ো না হে পাক।
আজ আমি লিখি—এই কণ্ঠেরই আলোয়,
শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা হৃদয় জুড়ে ঢালোয়।
তিনি আছেন স্মৃতির ভিতর, আছেন প্রতিটি প্রাণে,
শিক্ষকের নামেই জাগে সুর, ভেসে যায় সম্মানের গানে।