মায়া
মোঃ বুলবুল হোসেন
মায়া হইল অদ্ভুত জিনিস, হাতে ধরা যায় না,
ছাড়তে চাইলে ছাড়ে না গো, বুকের পাশে টানে না।
মায়ের মুখে মায়ার ছোঁয়া, ছেলের চোখে ভর,
বাবার কাঁধে ভরসা থাকে, সান্ত্বনা দেয় বর।
পাখির বুকে মায়া জাগে, ছানার ডাকে সনে,
শিশু কেঁদে বলে হাহাকার— “মা গো, আয় ঘরে।”
প্রেমের বাঁধন অটুট সুত, ছিঁড়তে কেমনে হয়?
ছিঁড়তে গেলে ব্যথা বাড়ে, কাঁদে প্রাণ-লয়।
গ্রামের মাটির ঘ্রাণে থাকে অদ্ভুত মায়া,
ভিটে ছাইড়া গেলে মানুষ কাঁদে দুঃখ পায়া।
নদীর ধারে ফেলে আসা নৌকা ডাকে প্রাণ,
বাতাস বলে— “ফিরে আয়রে, আঁকড়ায়ে জান।
বন্ধু যদি রাগে চলে, বাজে মায়ার টান,
চিঠির পাতায় লিখে রাখি তারই পবিত্র নাম।
মায়া ছাড়া শূন্য লাগে এ মানবের প্রাণ,
ভালো থাকতে দেয় না তবু বেঁধে দিনের টান।
শেষ বিদায়ে চোখের জলে মায়া থাকে রয়,
মৃত্যুর পরও আঁকড়ে ধরে, ছাড়তে কেমনে কয়?
মায়া হইল সোনার সুতো, বেঁধে জগতখানি,
মায়ার টানে জীবনধারা মধুর ভরা জানি।