নিঃশব্দে চাঁদ হওয়ার আগেই
মোঃ বুলবুল হোসেন
যখন অবন্তি মানুষ ছিল—
পায়ের তলার মাটি, চোখের ভেতর নরম কুয়াশা,
ভুল করে ফেলে আসা চিরকুটের মতো
তার ভালোবাসা থাকত আমার পকেটে।
সে ছিল দুপুরবেলার গোপন সুর,
ছোট ছোট হিসেব ভুলে গিয়ে
আমার পকেটে গুঁজে দিত ভাতের টাকা,
তাতে রোদ লেগে থাকত,
আর আমার ঠোঁট জড়িয়ে থাকত
তার হাতের ঘ্রাণে।
তার হাসি ছিল আয়নার ওপারে রাখা ঈদ,
আর চোখে লেগে থাকত রোদের ফোঁটা।
আমরা প্রেম করতাম চুপিচুপি—
ঠিক যেন কুয়াশা আর দীঘির মাঝখানে
দুইটি মাছি শব্দহীন ডুব নেয়।
কিন্তু একদিন সে মানুষ থেকে অন্য কিছু হয়ে উঠল,
হয়তো রাজনীতি, হয়তো স্বপ্ন, কিংবা অলঙ্কার!
তার ব্যাগে ঢুকে গেল দামি ব্র্যান্ডের লিপস্টিক,
হাঁটার ভঙ্গি হয়ে উঠল বিজ্ঞাপনের মতো।
আমি তখন আর তার পাশে মানাতাম না,
আমার গায়ের গন্ধ ছিল এখনো ধানগাছের,
তার গন্ধ হয়ে উঠেছে এসেন্স,
নাম— ‘অপরিচিতা’।
তারপর একদিন সে সত্যিই ফুল হয়ে গেল—
দূর থেকে তাকাতে ভালো লাগে,
কিন্তু ছুঁতে গেলেই ঝরে পড়ে স্মৃতি হয়ে।
তারপর সে হয়ে উঠল চাঁদ,
একটি ঘরে আলো হয়ে জ্বলে থাকে,
আমার ছায়া সেখানে পড়ে না,
আমার নাম সেখানে উচ্চারিত হয় না।
আমি প্রতিদিন তাকিয়ে থাকি সেই আলোয়,
যেখানে সে হাসে, ছবি তোলে,
আর আমি পাতার নিচে বসে ভাবি—
ভালোবাসা বুঝি শুধু ছুঁয়ে যাওয়ার নয়,
তাকে হারিয়ে ফেলার মধ্যেও
একটা চিরস্থায়ী উপস্থিতি থাকে।
আজও আমি লিখি,
তেত্রিশটি হরফ দিয়ে গড়ে তুলি তার নাম,
অথচ কেউ পড়ে না, কেউ বোঝে না—
আমি কেবল একবার ছুঁতে চেয়েছিলাম
নিঃশব্দে চাঁদ হওয়ার আগেই।