শিয়াল আর কুমির 🐊
মোঃ বুলবুল হোসেন
জঙ্গলের এক কোণে ছিল এক নদী। নদীর তীরে বাস করত এক চতুর শিয়াল আর নদীর ভেতর থাকত এক বোকা কুমির। শিয়াল ছিল দুর্দান্ত চালাক আর কুমির ছিল সরল ও অলস। তবুও তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত বন্ধুত্ব ছিল।
শিয়াল প্রতিদিন নদীর ধারে ঘুরে ঘুরে ফলমূল খেত, আর মাঝে মাঝে কুমিরকে দেখে হাই তুলে বলত,
“তুই তো শুধু পানিতেই পড়ে থাকিস রে! আসল মজাটা তো শুকনো মাটিতে!”
কুমির হেসে বলত,
“তুইও তো হাঁসফাঁস করিস! পানির স্বাদ বুঝিস না, মাটি কেবল শুকনো আর গরম!”
তাদের বন্ধুত্ব এমন মধুরই চলছিল। একদিন কুমিরের মনে লোভ জন্মালো। সে শুনেছে শিয়ালের হৃৎপিণ্ড নাকি খুব সুস্বাদু! সে ঠিক করল এক ফাঁদ পেতে শিয়ালকে খেয়ে ফেলবে।
পরদিন কুমির বলল,
“বন্ধু, তোর কথা ঠিক। মাটির জগৎও একবার দেখা উচিত। তোকে একটা জলজ দ্বীপে নিয়ে যাই চল?”
শিয়াল একটু ভাবল, সন্দেহ জাগল। তারপর বলল,
“চল তো, একবার দেখে আসি। তবে আমার হৃৎপিণ্ডটা আমি গুহায় রেখে এসেছি, কেউ চুরি করে না যেন!”
কুমির তো খুশিতে আত্মহারা! শিয়ালকে পিঠে তুলে ভাসতে শুরু করল। মাঝনদীতে এসে কুমির আসল পরিকল্পনা জানাল।
শিয়াল হেসে বলল,
“আহারে কুমির ভাই, আগে তো বলিসনি! আমি যদি জানতাম, হৃৎপিণ্ড লাগবে, তাহলে তো সাথে করে আনতাম!”
কুমির বলল,
“তা হলে ফিরে চল, ওটা আন!”
শিয়াল তীরে ফিরে এসে লাফিয়ে উঠে বলল,
“হা হা! এই বোকা কুমির, হৃৎপিণ্ড কেউ শরীরের বাইরে রাখে নাকি? আমাকে খেতে চেয়েছিলি? এখন একা একা জল খেয়ে মর!”
কুমির বুঝল সে ধোঁকা খেয়েছে। কিন্তু ততক্ষণে শিয়াল ঝোপের আড়ালে উধাও।
শিক্ষণীয় বার্তা:
লোভে পড়ে কাউকে ঠকাতে গেলে নিজেকেই ঠকতে হয়। বুদ্ধির চেয়ে নিষ্ঠা বড়।

