ক্ষুধার ছায়া
মোঃ বুলবুল হোসেন
ভাঙা কুঁড়েঘরের কোণে বসে আছে অসুস্থ বাবা,
মেয়েটির চোখে অশ্রু, হৃদয়ে ক্ষুধার জ্বালা।
চারিদিকে নীরবতা, চুলায় জ্বলে না আর আগুন,
পেটের খিদে ছিঁড়ে ফেলে বুকে গোপন রাগুন।
এক লোক এল হাতে খাবার, হেসে যেন উপহাস,
তৃষ্ণার্ত চোখে তাকিয়ে রইল মেয়েটি উদাস।
হঠাৎ বুকে সাহস এলো, দুঃখ ভাঙল শঙ্কা,
কেঁপে উঠল ক্ষুধার কণ্ঠ, ঝরল হৃদয় ধ্বংকা।
কেউ বলে চুরি, কেউ বলে দোষ—
কিন্তু বাবার জন্যে মেয়ের চোখে সবই মধুমোষ।
কেঁপে কেঁপে হাত বাড়িয়ে ছিনিয়ে নিলো থালা,
বুকের ভেতর তীব্র ক্ষুধায় বাজল রুদ্রশালা।
লোকটির চোখে বিস্ময়, ঠোঁটে জমল অভিমান,
কিন্তু মেয়ের বুকের আর্তি করল প্রাণে দহন।
দৌড়ে গেল কুঁড়েঘরে, বাবার কোল ঘেঁষে,
খাবার দিল কাঁপা হাতে, অশ্রু লেগে গেঁথে।
বাবার ঠোঁটে হাসি ফুটল, নিভল অনন্ত ক্ষুধা,
মেয়ের চোখে দীপ্তি উঠল, ভাঙল জীবনের বাঁধা।
মানুষ বোঝে না ক্ষুধার শক্তি, বোঝে না সেই ব্যথা,
যেখানে ভালোবাসা জেতে, হার মানে সব কথা।