প্রতীক্ষার বৃক্ষ
— বুলবুল হোসেন
কত ভোরে শিশির ভেজা ঘাসে হেঁটেছি,
আকাশের প্রান্তে প্রথম রোদ দেখেছি,
পাখির ডাকে ভিজে থাকা বাতাসে
তোমার পদচিহ্ন খুঁজেছি নিরবধি।
কখনো পথের বাঁকে চুপচাপ বসেছি,
কেউ বলেছিলো— ফিরবে সাথে নিয়ে,
কখনো কারো জন্য গ্রীষ্মের দুপুরে
দেয়ালের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থেকেছি।
এমন কত সন্ধ্যা গেছে
যখন বৃষ্টি ভিজিয়েছে দু’চোখ ভরে,
কেউ আসেনি, তবু মনে হয়েছে
অবশ্যই আসবে— শুধু দেরি করছে।
এইসবই ছিলো ‘অপেক্ষা’—
যা অনেকে চায়, অনেকেই দেয়,
যা প্রয়োজনের কাছে বাঁধা,
এবং ভুলেও যায় একসময়।
কিন্তু তোমার জন্য সেই শব্দ নয়,
তোমার জন্য আছে অন্য সংজ্ঞা,
যা অভিধানে নেই— শুধু হৃদয়ে,
তার নাম ‘প্রতীক্ষা’।
প্রতীক্ষা মানে ঘড়ির কাঁটা গোনা নয়,
না কোনো তারিখের পাতায় চিহ্ন রাখা,
এটি সেই বাতাস—
যা ঋতুর পর ঋতু বয়ে যায়
তবু শেষ হয় না।
তুমি যদি বলো—
“আমি ফিরবো, দাঁড়িয়ে থেকো”,
আমি বটগাছের মতো স্থির থাকবো,
পাতা ঝরবে, শ্যাওলা জমবে,
তবু পা নড়বে না মাটির বাঁধন থেকে।
প্রতীক্ষা শেষ হয় না কখনো,
তা পূর্ণ হয়েও থেকে যায়,
যেন দিগন্তে জ্বলা বাতিঘর—
যা কেবল তোমার জন্যই আলো দেয়,
তুমি না এলেও।
আর যদি তুমি এসো—
আমার সমস্ত শিকড়, সমস্ত পাতা
তোমার পদধ্বনিতে কেঁপে উঠবে,
তবু জানবে—
আমার প্রতীক্ষা তখনও শেষ নয়,
কারণ তোমাকে পেয়ে গিয়েও
তোমার জন্য আমি অপেক্ষা করবো
জীবনের শেষ ভোর পর্যন্ত।