যৌতুকের আগুনে ভেঙে গেছে স্বপ্ন”
মোঃ বুলবুল হোসেন
গরিব বাবার চোখে আজও লুকানো কত আশা,
মেয়ের হাসিটুকু ছিলো তার জীবনেরই ভাষা,
যৌতুকের আগুন এসে সব স্বপ্ন করলো নাশা।
শ্বশুরবাড়ির কথা যেনো ছুরির মতো বিঁধে যায়,
“টাকা দাও, না হলে বিয়েটা আর হবে না ভাই”—
এই বলেই তারা শেষে বিয়ের মঞ্চ ভেঙে যায়।
মা-বাবার বুক ফেটে যায়, থেমে না আজ কান্না,
অভিমানে ভেঙে পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা জান্না,
হাজার স্বপ্ন আজকে শুধু মাটির সাথে রন্না।
মেয়ের পিরানে আজ যেনো লজ্জার অশ্রু জল,
“কখনো কি সুখ হবে মা?”—বলে কাঁদে বেদনাজল,
মানুষ আজ কেনো হলো এতো নিষ্ঠুর, নির্দয় বল?
গরিব হলেও মন তো ছিলো সোনার মতো খাঁটি,
তবু সমাজ হিসেব করে টাকার পরিমাণই নাঁটি,
অভাবের দায়ে ভেঙে গেলো সুখের ছোট্ট ঘাঁটি।
আকাশ আজও নীরব থেকে জিজ্ঞেস করে বারবার,
“মানুষ তবে কবে হবে মানুষেরই কারবার?”
যৌতুক নামের এই বিষ কোনদিনই হবে পরাজয়কার?
মেয়ের চোখে আগুন আজও, তবু ভাঙেনি মন,
বাবার কাঁধে হাত রেখে বলে—“আমি আছি জন”,
অভিশাপের এই সমাজে মানবতার হোক পুনর্জন্মের ক্ষণ।
