একা অরণ্যের নদী
মোঃ বুলবুল হোসেন
আমার ভেতরে এক নদী আছে,
যে নদী একা বইতে জানে,
কোনো সেতু নেই, কোনো মাঝি নেই,
শুধু অরণ্যের আঁধার পেরিয়ে
নিজেকেই টেনে নিয়ে যায় অজানায়।
বন্ধু বলতে আমি ভেবেছিলাম
কোনো বৃক্ষের ছায়া থাকবে নদীর তীরে,
আমি ক্লান্ত হলে সেখানে বসব,
জলপাই পাতার মায়া ছুঁয়ে বলব—
“শোনো, আজ আমার ভেতরে ঝড় বইছে।”
কিন্তু সব বৃক্ষই একদিন ঝরে গেছে,
কেউ ছায়া হয়ে টিকে থাকেনি।
সবাই এসেছে পথিক হয়ে,
দু’চোখে হেসেছে, কিছু গল্প দিয়েছে,
তারপর দিগন্তের ভেতর মিলিয়ে গেছে।
আমি একা নদী হয়ে বয়ে যাই প্রতিদিন,
কোনো দুলে ওঠা নৌকা নেই,
কোনো নির্ভর হাত নেই বৈঠায়।
শুধু ঢেউগুলো নিজেই নিজেকে ধাক্কা মেরে
অশান্ত হয়ে যায়,
আর আমি ভাবি—
এত ভীষণ জলরাশির ভেতরে
কেন এতো শূন্যতা?
কখনো মনে হয় আমি অরণ্যের গাছ,
যে গাছের ডালপালা কেটে নিয়েছে সবাই,
ছায়া চাইনি কেউ,
শুধু কাঠ কেটে নিয়ে গেছে নিজস্ব আগুনের জন্য।
বুকে রয়ে গেছে ক্ষতচিহ্ন,
আর আমি দাঁড়িয়ে আছি নির্বাক,
অচল, নির্জন, বন্ধুহীন।
আমার কাছে কোনো নাম নেই ডাকার,
কোনো হাত নেই ধরবার,
কোনো বুকে নেই ঝুঁকে পড়বার—
শুধু নদীর ঢেউ,
শুধু অরণ্যের নির্জনতা।
বন্ধুহীন মানুষ আসলে
একটা নিরুদ্দেশ ভেলা,
যে ভাসতে ভাসতে জানে
কোনোদিন কোনো তীরে পৌঁছানো হবে না।
তবুও আমার ভেতরে গোপনে জেগে ওঠে আকাঙ্ক্ষা,
হয়তো একদিন কেউ আসবে,
হয়ে উঠবে বৃক্ষের মতো ছায়া,
অথবা নদীর মতো দোল খাওয়া সঙ্গী—
যার কাছে আমি নিজেকে ভেঙেচুরে দিতে পারব,
যে আমাকে ফিরিয়ে দেবে
একটা আলো,
একটা জীবন।