ফিরে আয় মা
মোঃ বুলবুল হোসেন
মা’রে, তুই জন্ম নিলে বসন্ত এলো ঘরে,
তোর হাসিতে প্রাণ ভরেছে, কাঁটা গেছে অন্তরে।
কোলেতে তুই ঘুমিয়ে থাকিস, ঘর ভরে গন্ধে,
জীবন তখন গান হয়ে যায়, স্বপ্ন যায় বন্দে।
হাঁটতে শিখলি ধীরে ধীরে, হাত ধরে রাখতাম,
পড়ে গেলে বুকের ভেতর ব্যথা আমি পেতাম।
প্রথম যেদিন স্কুলে গেলে, নাম জিজ্ঞেস করল গুরু,
‘মা’ ছাড়া তোর নাম যেন ভুলে গেছে মোর সুরু।
আজকে শুনি ঘর ছেড়ে তুই চলেছিস দূরে,
অচেনা এক জনের সাথে, অন্য কোনো সুরে।
তুই ভেবেছিস তার হাতেই সব সুখ ধরা,
আমার বিশ বছরের মায়া তবে হলো সরা?
বাবার মনটা শামুকের মতো, বাইরে শক্ত খোল,
ভেতরে যে নরম মাটি, তোরেই ঘিরে ঢোল।
তিন বছরের প্রেম তুই করলি তোর ঠিকানা,
আমার স্বপ্ন, আশা, ভালোবাসা হলো হারা মানা।
ভাবছিলাম শঙ্খ বাজবে, ঘোমটা দেবো তোরে,
আশীর্বাদের সাথে দেবো বিদায় হেসে ঘরে।
চোখের জলে গর্ব মিশে গান গাইবো সেদিন,
সুখের স্রোতে ভাসাবো তোর নতুন পথের অধিন।
কিন্তু তুই এলে আঁধারে, লুকিয়ে পথ ধরি,
বুক ভাঙলো তবু মা গো, রাগ আমি করিনি।
শুধু অভিমান জমেছে যে নদীর জলে,
তুই ছাড়া এই উঠোনে চাঁদের আলো ফিকে চলে।
একদিন তুইও কোল ভরবি নিজের সন্তান নিয়ে,
বুঝবি তখন বাবারা কেমন করে দিইয়ে।
যতই রাগ করুক মুখে, মনটা কাঁদে চুপে,
ভালোবাসা ফোটে যেমন বৃষ্টির নরম রূপে।
যদি মন কাঁপে ফিরে আয় মা, বুকটা রবে খোলা,
তোর জন্যই সাজানো এই উঠোনের সব বেলা।
অভিমান ভুলে আয় মা, রাগও রাখিস না মনে,
বাবার বুকই তোর জন্ম-শেষ আশ্রয়স্থানে।