বিদেশ বিভোর প্রবাসী
মোঃ বুলবুল হোসেন
সোনার দেশে স্বপ্নের পাখি, উড়তে গিয়ে ধরা,
চাকরির নামে বন্দি হলো হাজার বেদনার ঘর।
হাতে রোদ, চোখে ঘাম, কাঁধে বোঝা যত,
প্রতিদিনই ফুরিয়ে যায় আত্মার শক্তি যত।
ছেলে পড়ে ক্লাস থ্রিতে, মেয়ে পড়ে ছয়,
স্ত্রী বলে – পাঠাও টাকা, ঘরের চালা ঢয়।
মায়ের ওষুধ, বাবার চশমা, ভাইয়ের স্কুলের ফি,
সব সামলায় প্রবাসী ভাই, করে না কোনো রি।
কেউ ভাবে বিদেশ মানেই সুখের রঙিন খেলা,
কেউ জানে না বুকে তার কত দীর্ঘশ্বাসেলা।
মাটির ঘ্রাণে বুক ভরে, ছবি দেখে চোখে জল,
মোবাইল স্ক্রিনে ঈদ কেটে যায় – প্রাণে লাগে ছল।
ভোরবেলা উঠে কাজে যায়, ফিরতে রাত বারোটা,
পাঁচ মিনিট কথা মায়ের সাথে, তাতেই শান্তি পায়টা।
জীবন কেটে যায় বিছানায় নয়, বিছানার বাইরেই,
বাঁশ, সিমেন্ট, ইটের সাথে খেতে হয় লড়াই।
ছুটি বলতে কেবলই স্বপ্ন, অনুমতিই অনিশ্চয়,
ফেরার ইচ্ছে হলেও বেতন বাকি — মালিকের সে শঠচয়।
ভিসা করে কাটাকাটি, পাসপোর্টে গোলমাল,
সুযোগ পেলে বলে সে – ‘মাফ কর মা, আমি কাল’।
স্বপ্ন ছিল মাঠে হাঁটবে, খোলা হাওয়ায় বুক ভরে,
আজ সে আটকা মরুভূমে, চোখে জল থরে থরে।
প্রতিদিনই শরীর ভাঙে, তবু কেউ বুঝে না দুঃখ,
সবাই শুধু পাঠাও পাঠাও – এমন জীবনে কি সুখ?
তাই বলি ভাই, খোলা চোখে দ্যাখো প্রবাসীর ব্যথা,
ওদের শ্রমে গড়ে উঠে দেশের গর্বময় পথ।
সম্মান দাও তাদের শ্রমকে, দাও ভালোবাসার স্থান,
তাহলেই হয়তো কমে যাবে প্রবাসী জীবনের অভিমান।