এই শহরের মাটিতে আগুন
মোঃ বুলবুল হোসেন
এই শহরের ধুলো মাখি, ভাঙা পায়ে হাঁটি,
পেটটা খালি, চোখে আগুন, ভাঙা কপালে ছাঁটি।
নেই কোনো গান, নেই বাহার, নেই শিরোনাম সুখ,
পেটের তাগিদ লেলিহান হোক, কান্নায় ভাসাই বুক।
আমার ঘামেই উঠেছে গলি, তৈরি তোরই দেশ,
আমার ঘরেই নেই খাটিয়া, নাইকো আগুন রেশ।
আমার বউটি সারাদিন কাঁদে, পিচে নামে ধোঁয়া,
শোষণের এই গল্পখানি আর তো হবে না নোয়া!
তুই যে শাসক সোনার পাখি খাঁচায় রাখিস বেঁধে,
আমি চাষা, খুঁটি বেঁধে রোদে-জলে দিন ছেঁড়ে।
আমার চোখের রক্তজলে ভিজেছে তোর রাজ,
তবু কেন এই বুক ভাঙা, কণ্ঠে উঠে লাজ?
তোর সংসদে বাজে শঙ্খ, বাজে মদের ঢাল,
আমার বুকে বাজে ক্ষুধা, গহীন পেটের শাল।
ভাতের থালায় তুই তো খাসিস সাতরঙা সব মাছ,
আমি খুঁজি হাড়গোড়ে, এক মুঠো ভাতের হাঁচ!
শত শত মা সন্তান খুইয়ে কাঁদে দিনের শেষে,
তোর তো বুকে বিলাস খুঁজি, হাঁসের পালক বেশে।
আমি আছি রেল লাইনের ধারে, আধভাঙা এক ঘরে,
ভবিষ্যতের নাম শুনে আজ কষ্টে প্রাণ ঝরে।
তুই তো দেখিস গাড়ির ভেতর ধোয়া কাঁচের ঝিল,
আমি দেখি পেটের খিদায় নিঃশেষ ঘরের তিল।
তোর শহরের ঝলমলে আলো চোখে মারে ধোঁকা,
আমার বুকে ফাটে ক্ষোভের কড়া আগুন, কেমন শোকা।
এই যে জীবন, কুয়াশা ঢাকা, জ্বলছে অন্ধ রাত,
চাই না দান, চাই না করুণা, চাই তো পাঁকা ভাত।
আমি যারা পথে নেমেছি, মুখে তুলে বচন—
তাদের ঠোঁটে আগুন জ্বালিস, নাম করিস ‘অচেন’!
আমার চিৎকার, ঘামে লেখা বিদ্রোহীরই গান,
এই শহরের রাজার ঘরে কাঁপন তোলে প্রাণ।
আজকে আমি কথা বলি, পাথর কেটে পথ,
আমার পেছনে জেগে উঠুক কোটি জনতার রথ।