1. a@banglarkobi.com : admin1 : BULBUL HOSEN
  2. bulbulshake36@gmail.com : BULBUL HOSEN : BULBUL HOSEN
  3. salammaster1975@gmail.com : কবি এম.এ. সালাম : কবি এম.এ. সালাম
  4. bhandarylaxman@gmail.com : লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী : লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী
  5. lokmanrakib@gmail.com : Lion Lokman Rakib : Lion Lokman Rakib
  6. tm.nazmul@gmail.com : এম নাজমুল হাসান : এম নাজমুল হাসান
স্বাধীনতা - বাংলার কবি|banglarkobi বাংলার কবি ও কবিতার আসর | Banglar Kobi & Kobitar Asor
BULBUL HOSEN
BULBUL HOSEN
  • ৫ days আগে
  • ১০
স্বাধীনতা

পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল ১৯৪৭ সালে আর ঠিক ১৯৪৮ সালেই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা এসে ঘোষণা করলেন ।উর্দু হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। পাকিস্তানের বাঙালিরা তার প্রতিবাদ করে ।বিক্ষোভ শুরু করে দিল। আন্দোলন তীব্রতর হয়ে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সারা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ল। পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার এবং আরো নাম না জানা অনেকেই। এর পর থেকে সেই আন্দোলনকে থামানো যায়নি, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীকে শেষ পর্যন্ত ১৯৫৬ সালে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়ে ছিল। যেখানে আমাদের ভাষাশহীদরা প্রাণ দিয়েছিলেন, সেখানে এখন রয়েছে আমাদের প্রিয় শহীদ মিনার, আর ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখ শুধু বাংলাদেশের জন্যে নয়। এখন সারা পৃথিবীর মানুষের জন্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়।

২৫ মার্চের গণহত্যা শুরু করার পর বাংলাদেশে কেউ নিরাপদ ছিল না। তবে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক আর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর রাগ ছিল । মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারে এরকম তরুণেরাও সেনাবাহিনার লক্ষ্যবস্তু ছিল। সবচেয়ে বেশি আতষ্কের মাঝে ছিল কমবয়সী মেয়েরা। সেনাবাহিনীর সাথে বাংলাদেশের বিহারি জনগোষ্ঠীও বাঙালি নিধনে যোগ দিয়েছিল এবং তাদের ভয়ংকর অত্যাচারে ।এই দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী পাশের দেশ ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে ছিল। জাতিসংঘ কিংবা নিউজ উইকের হিসেবে মোট শরণার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক কোটি। সে সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যাই ছিল মাত্র সাত কোটি যার অর্থ দেশের প্রতি সাতজন মানুষের মাঝে একজন নিজের দেশ ও বাড়িঘর ছেড়ে পাশের দেশে আশ্রয় নিতে হয়েছিল।

বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল। সত্যিকার অর্থে একটি জনযুদ্ধ। এই দেশের অসংখ্য ছাত্র-জনতা-কৃষক-শ্রমিক যোগ দেয়, সমতল ও পাহাড়ী আদিবাসী মানুষ। মুক্তিযোদ্ধাদের পায়ে জুতো গায়ে কাপড় ছিল না। প্রয়োজনীয় অস্ত্র ছিল না, এমনকি যুদ্ধ করার জন্যে প্রশিক্ষণ নেবার সময় পর্যন্ত ছিল না। খালেদ মোশাররফের ভাষায়, যুদ্ধক্ষেত্রেই তাদের প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছিল। তাদের বুকের ভেতরে ছিল,সীমাহীন সাহস আর মাতৃভূমির জন্যে গভীর ভালবাসা। বাংলাদেশের নিয়মিত বাহিনী যখন প্রচলিত পদ্ধতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সাথে যুদ্ধ করেছে। তখন এই গেরিলাবাহিনী দেশের ভেতরে থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে আঘাতে করে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। তাদেরকে বাধ্য করেছে তাদের গতিবিধি নিজেদের ঘাঁটির মাঝে সীমাবদ্ধ রাখতে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেনি। কিন্তু প্রকৃত যোদ্ধাদের মতোই অবদান রেখেছিল। সে রকম প্রতিষ্ঠানটির নাম হচ্ছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। আমাদের কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের সাহায্যে, এই বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের অবরুদ্ধ জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। সেই সময়ের অনেক দেশের গান, এখনো বাংলাদেশের মানুষকে উজ্জীবিত করে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদানের কথা ।আলাদা করে না বললে ইতিহাসটি অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। তাঁদের সাহায্য সহযোগিতা জন্যো। মুক্তিযোদ্ধারা দেশের অভ্যন্তরে নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে যুদ্ধ করতে পেরেছেন। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন, যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। এমনকি অস্ত্র হাতে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে, বীরের ভূমিকা রেখেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা আর ভারতীয় সৈন্যরা ঢাকা ঘেরাও করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণ করার জন্যে আহবান করল। গভর্নর হাউসে বোমা ফেলার কারণে তখন গভর্নর মালেক আর তার মন্ত্রীরা পদত্যাগ করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে (বর্তমান শেরাটনে) আশ্রয় নিয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনী ঢাকার সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে লক্ষ লক্ষ লিফলেট ফেলেছে, সেখানে লেখা’ মুত্তিবাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আগে আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করো।

ঢাকার ‘পরম পরাক্রশালী’ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তখন আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নিল। আত্মসমর্পণের দলিলে বাংলাদেশ এবং ভারতের যৌথ নেতৃত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করার কথাটি দেখে একজন পাকিস্তান জেনারেল দুর্বলভাবে একবার সেখান থেকে বাংলাদেশের নামটি সরানোর প্রস্তাব করেছিল কিন্তু কেউ তার কথাকে গুরুত্ব দিল না, ইতিহাসে সত্যকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই!

১৬ ডিসেম্বর বিকেল বেলা রেসকোর্স ময়দানে হাজার হাজার মানুষের সামনে জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পণ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের মাটি থেকে মাথা নিচু করে, বিদায় নেয়ার দলিলে স্বাক্ষর করেন। যে বিজয়ের জন্যে এই দেশের মানুষ সুদীর্ঘ নয় মাস অপেক্ষা করেছিল। সেই বিজয়টি এই দেশের স্বজন হারানো সাতকোটি মানুষের হাতে এসে ধরা দিল।বাংলাদেশের মানুষ পেল স্বাধীন দেশ।

দয়া করে শেয়ার করুন স্যোসেল মিডিয়ায়

Comments are closed.

কবি পরিচিতি
BULBUL HOSEN
BULBUL HOSEN
আমি শৈশব থেকে বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের টাংগাইল জেলার কালিহাতী থানার ঘুনিপাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠি। পিতার নামঃ- মোঃ ফ্জলুল হক। মাতাঃ- মোসাঃ মনোয়ারা বেগম। Mail:-bulbulshake36@gmail.com