জরূরী ঘোষনা :
বূলবুল প্রকাশনী থেকে ২০২১ সালের বই মেলায় বই প্রকাশ করা হচ্ছে। আগ্রহীগন যোগাযোগ করুন-01768-771825

আমার নাম মোঃ মনিরুল ইসলাম,পিতা মোঃ ফজলুল হক, গ্রাম ঘুনিপাড়া |ছোটবেলা থেকেই আমার একটি ইচ্ছা। এই বাংলাদেশের প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা। বাবার কাছে বায়না ধরলাম কিন্তু বাবা রাজি হলো না। বাবা চাইতেন বাসায় সব সময় যেন বাবার কাছে থাকি।
আমার ইচ্ছাটা দাদুর কাছে বুঝিয়ে বললাম। দাদু ছিলেন অনেক বুদ্ধিমান এবং চতুৱ। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। আমি ছোটবেলা থেকেই দাদুর কাছে থাকতাম। দাদু আমার বন্ধুর মতন। দাদু আমাকে বুঝিয়ে বলল শোন, আমি বাংলাদেশের সম্পর্কে যা জানি তোকে বুঝিয়ে বলছি। প্রকৃতি রুপসী কন্যা আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের নদী মাঠ অরণ্য পাহাড়ে রূপ দেখে আমাকে মুগ্ধ করে। গাছে গাছে উড়ে বেড়ানো বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। তাদের কলকাকলিতে এই হৃদয় আনন্দে ভরে যায়। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নাম স্বাধীন দেশর জন্ম হয়। বাংলাদেশ ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার ছোট্ট একটি দেশ। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত। বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ আসাম মেঘালয় ভারত। পূর্বে ভারতের আসাম দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।

বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে সুন্দরবন অবস্থিত। এর রয়েছে বিশ্ব পরিচিতি। সুন্দরবন একে ঘিরে পার্শ্ববর্তী অঞ্চল সমূহ গড়ে উঠেছে স্বতন্ত্র জীবনধারায়। বিশ্বের সেরা প্রজাপতি গাছপালার সমৃদ্ধ সুন্দরবন মূলত সুন্দরী গাছের জন্য বিখ্যাত। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার আর চিতল হরিণ বিশ্বে অনন্য। নদীতে আছে কুমির। এছাড়াও আছে নানান প্রজাতির পাখি আর অজগর সাপ। সবমিলিয়ে সুন্দরবনের ঘটেছে ভয়ংকর আর সুন্দরে বিচিত্র সমাবেশ।

বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত কক্সবাজারে সমুদ্র উপকুলি বিশ্বের সর্ববৃহৎ। ফেনীর সাগরের মাঝখানে জেগে উঠেছে দ্বীপগুলোর সারি সারি নারিকেল আর সুপারির বাগান। সাগরের সাথে দিপালী বাশির অপূর্ব মিল। মাঝে মাঝে বিক্ষুব্ধ সাগর ভুলে যায় সে কথা। প্রবল আক্রমণে ভাসিয়ে নিয়ে যায় সব। তবুও নতুন আশায় বুক বাঁধে। এখানকার মানুষ জন। সাগরের উত্তাল ঢেউ আবার দুলে উঠে জেলেদের নৌকা। রাতে এসব নৌকায় জ্বলে ওঠে হ্যারিকেনের আলো। আকাশ ভেঙে জোসনা নামে।
অপরদিকে পার্বত্য বিশাল এলাকাজুড়ে সীমাবদ্ধ সুন্দর্য সমাবেশ। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর পাহাড়ের কোল ঘেঁষে আদিবাসীদের বসবাস আদিবাসীরা ।পরিবেশের সাথে মিলেমিশে একাকার। হাতেগোনা কয়েকটি শহর বাদ দিলে বাংলাদেশের বলতে পুরাটাই গ্রাম অঞ্চল। গ্রামবাংলায় অপরূপ বৈচিত্র্যের এই দেশ গর্বিত। গ্রামের সৌন্দর্য মিটালো একটু কৃত্তিম ছোঁয়া নেই তাতে। যতদূর দৃষ্টি যায় সবুজ মাঠ, কোথাও কোথাও সবুজের সোনালী ফসেল উঁকিঝুঁকি। মিঠু পথের ধারে হয়তো। বীরের মতো দাঁড়িয়ে ছায়া দিচ্ছে বিশাল বড় বটগাছ। গাছপালা ঘেরা ছোট ছোট ঘর গুলো যেন শান্তির নির। পুকুর নদী বিল এবং ঝিলে কাকের চোখের মত স্বচ্ছ কাল জল। ফুটে আছে শাপলা সাদা লাল কিংবা গোলাপি।একই পাশে হয়তো একদল পাতিহাঁস আপন-মনে খেলছে জলের খেলা। ঠিক দুপুরের কাছে কোথাও একটানা ডেকে হচ্ছে চলেছে আসল বিরহী ঘুঘু। ক্লান্ত রাখাল গরু চড়ানোর ফাকে গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে বাঁশিতে তুলছে অপূর্ব সুর। গ্রাম বাংলার সন্ধ্যা রূপটি আরও মধুর। গোধূলি বেলায় রাখাল মাঠ থেকে গরু নিয়ে ফিরে। দিগন্তের কাজ শেষে গায়ের চাষী ঘরে ফিরে পাখিরা ফিরে নীড়ে সূর্য প্রায় অস্ত যায়। চারু দিকে এক অপার্থিব আলো। দূর নীল আকাশে বুক চিরে দলবেঁধে উড়ে যায় বলাকারা। রাতে বাঁশ বাগানে মাথার উপরে চাঁদ উঠে। ডেলে দেয় জ্যোৎস্নার আলো। উঠানের গাছের ছায়ায় ফাঁকে জোসনার আলো নানা আকৃতি নেয়। চলে আলো-আঁধারের অপূর্ব খেলা।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের মাটিকে উর্বর করছে অসংখ্য নদী উপনদী। শীতে নদীগুলো খানিকটা শুকিয়ে গেলেও। বর্ষায় যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। দুটি কূল ছাপিয়ে যায় পানিতে। নদীতে তখন পাল উড়িয়ে সারি সারি নৌকা চলে। সে এক অপরূপ সৌন্দর্য। যেন এক পাল রাজহাঁস ডানা মেলে ভেসে চলেছে নদীর বুকে।

বিভিন্ন ঋতুর রূপ বৈচিত্র বাংলাদেশের দৃশ্য পরিবর্তন ঘটে। বৈচিত্র রূপের পসরা নিয়ে আসে ছয় ঋতু । গ্রীস্মের আগমনী বাংলাদেশের প্রকৃত রূপ। বিবর্ণ বিশুদ্ধ হয়ে ওঠে। চিড় ধরে মাটিতে। হারিয়ে যায় অপরূপ প্রকৃতি শ্যামল শোভা। ধুলো দিয়ে ঝড় তুলে আসে কালবৈশাখী। বাতাসের সাথে পাল্লা দিয়ে হারমানে গাছপালা। ভেঙে মুছে যায়। রুক্ষতার কঠোরতর মধ্যে প্রকৃতি ডালি ভরে সাজিয়ে দেয় বিচিত্র সব ফল। প্রচন্ড রুক্ষ তারপর সজল কালো মেঘের দিন ছায়া নামে বাংলাদেশ। পাল্টে যায় প্রকৃতির চেনা রূপ। বৃষ্টি অঝোর ধারায় গাছের পাতায় লাগে শিহরন। জাগিয়ে সজীবতা। কেয়ার কদমফুল প্রতিযোগিতায় মাতে। কালো মেঘের দল পলকে হানে বিদ্যুতের বাণ। বৃষ্টিপাত গ্রামগুলো মনে হয়। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা দ্বীপ। জলের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।প্রবল বৃষ্টি কখনো কখনো নেমে আসে বন্যা। তখন গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়। নষ্ট হয় ফসলি জমি। পুকুর ডুবে বেরিয়ে যায় মাছ। শুরু হয় কৃষকের আর্তনাদ।

শরতের প্রথম দিকে সারাদিন চলে মেঘের বৃষ্টি। আলোর লুকোচুরি খেলা এই খেলা খেলতে বর্ষার কালো মেঘে দল কোথায় যেন। একেবারে লুকিয়ে যায়। ঝকঝকে নীল আকাশ সাদা মেঘে পালতুলে বেশি বেড়ায়। সারারাত ফোটে ভোর বেলায় ঝরে পড়ে শিউলি ফুল। নদীর পারে সারি সারি কাশফুলের হাসি ছড়িয়ে দেয় দিগন্তে। হেমন্তর ঘরে ঘরে ফসল উঠে। ঢেঁকির তালে তালে ধান বাণে কূষানী। গ্রামে গানে গানে মুখরিত হয় নবান্ন উৎসব। সকালে সোনালী রোদে যখন ।সোনালী ধানের ডগায় বাতাসে দোল খায়। মনে হয় চারো দিকে শোনা ছরাৱ। পিঠা-পুলির উৎসব মুখরিত হলে হেমন্তের প্রকৃতির শান্ত। উৎসবে বাংলার বুকে শীত ভুলিয়ে দেয় হিমেল হাওয়া। ভোরের ঘন কুয়াশা আবরণী অন্তরালে প্রকৃতি তার সমস্ত রূপসজ্জা অলংকার ছুঁড়ে ফেলে বিরক্ত বৈরাগীর রূপ নেয়। গাছপালা হারায় সজীবতা। শুরু হয় পাতা-ঝরার বালা। নানান রকমের শাকসবজি রঙ্গে বেরঙ্গে ফুলেরা সবাই। প্রকৃতির রুপ ভরে ওঠে। শিশিরসিক্ত যেমন পাতা পরী করে।একদিন দক্ষিণা বাতাসে সেগুলো ঝরে যায়। প্রকৃতি দারুন চাঞ্চল্য জাগে। গাছে কোথায় থেকে আবার ফিরে আসে পাখিরা। গাছে শুন্য শাখা-প্রশাখা নতুন সবুজ বিকশিত হয়। পলাশ অশোক কৃষ্ণচূড়া শিমুলের কাছে যেন লাল ফুলের আগুন লাগে ।রাত একটু গভীর হতে না হতেই একসময় চৈতালির ঝড় উঠে। উড়িয়ে নিয়ে যায় পাতার ফুল সপ। দাদু আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হেসে বলে। কেমন লাগলো ভাই বাংলাদেশের বিচিত্র বর্ণনা। এদিকে বাবা আমাকে ডাকতে ছিল। দাদু বলল তুমি যাও আমার একটা কাজ আছে পরে কথা হবে।

এদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসতেছে। বাবা আমাকে ডেকে নিয়ে বললো। যাও পড়ার টেবিলে পড়তে বস। আমি চলে গেলাম আমার রুমে। পড়তে বসলাম আমার পড়ার টেবিলে। কেন জানি পড়াতে মন বসছে না আমার। তবুও কিছুক্ষণ পড়াশোনা করতে থাকি। দাদু তার বাহিরের কাজটা সেরে বাসায় চলে এসেছে। এদিকে মা ডাকতেছে খাবারের জন্য। দাদু কে বললাম চলো দাদু আমরা খেয়ে আসি মা ডাকতেছে। খাবার টেবিলে বসে দাদুকে বললাম ফিসফিস করে। দাদু আর কিছু জানার বাকি আছে বলবে না তুমি। দাদু বললেন এখন চুপ থাকো। বাবা শুনলে রাগারাগি করবে। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে। যাবার সময় দাদু কে বললাম বাকিটা শুনাতে হবে রাত্রে। দাদু বলল ঠিক আছে। রাতে ঘুমানো যাওয়ার সময়। দাদু কে বললাম কি দাদু বলবে না। দাদু বলল বলো তুমি কি শুনবে। আমি বললাম গার্মেন্টস-টেক্সটাইল শিল্প-কারখানার সম্পর্কে কিছু বল। দাদু বললেন ঠিক আছে তাহলে শোনো বলছি।
এ দেশের পোশাকশিল্পের ভিত্তি রচিতহয়।করাচিভিত্তিক ¬”মার্কারী শার্টস” বড় আকারের কিছু টেইলারিং প্রতিষ্ঠান নিয়ে পোশাকশিল্পের ভিত্তি রচনা করে।১৯৬৫-৬৬ সালে করাচি থেকে ইউরোপের বাজারে শার্ট রপ্তানি শুরু করে এ প্রতিষ্ঠানটি।

১৯৭৭-৭৮সালে এদেশে ছিলো শুধুমাত্র ৯টি রপ্তানিমূখী প্রতিষ্ঠান যারা ইউরোপের বাজারে১০লাখ মার্কিন ডলারের ব্যবসা করতো প্রতিবছর।
সেইসময় ৩টি বড় ও সুপ্রসিদ্ধ পোশাক কারখানা ছিলো দেশে।এগুলো হলো ১।রিয়াজ গার্মেন্টস,
২।জুয়েল গার্মেন্টস,
৩।প্যারিস গার্মেন্টস।
এগুলোর মধ্যে রিয়াজ গার্মেন্টস ছিলো সবচেয়ে পুরনো এবং বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের অগ্রপথিক।
ঢাকার উর্দুরোডে প্রথমে স্বল্পপরিসরে ছোট দর্জির দোকান হিসেবে যাত্রা শুরু করে রিয়াজ গার্মেন্টস।এসময় ¬ এর নাম ছিলো রিয়াজ স্টোর।১৯৭৩ সালে মেসার্স রিয়াজ গার্মেন্টস নামকরণ করা হয় এবং১৯৭৮ সালে বৈদেশিক রপ্তানি শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।প্¬যারিসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওঁলান্দার কাছে ১ কোটি ৩০লাখ ফ্রাঁ মূল্যের ১০ হাজার পিস শার্ট রপ্তানি করে প্রতিষ্ঠানটি।এট ¬িই প্রথম বাংলাদেশে বেসরকারী উদ্যোগে তৈরী পোশাক বিদেশে রপ্তানির কাজ।
দেশ গার্মেন্টস নামে আরোএকটি প্রতিষ্ঠানকেও পোশাকশিল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে গণ্য করা হয়।১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার দাইযু করপোরেশনের সাথে মিলিত হয়ে এদেশে শতভাগ রপ্তানিমূখী কারখানা স্থাপণ করেদেশ গার্মেন্টস।সর্ব ¬প্রথম পোশাকশিল্পে প্রযুক্তির ব্যবহারশুরু করে দেশ গার্মেন্টস।এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের ১২০জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠায় যার মধ্যে ১১৮ জনেরই নিজস্ব গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী আছে।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বিশ্ববাজারে ২২হাজারবিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যবসা করছে এবং এ শিল্পের সাথে জড়িয়ে আছে ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবন ও জীবিকা।বাংলাদেশ ¬ের মোট রপ্তানিআয়ের শতকার ৮১ ভাগ আয় আসেএই পোশাকশিল্পের মাধ্যমেই।
দাদুর মুখে টেক্সটাইলস শিল্প-কারখানার কথা শুনে গর্বে আমার বুকটা ভরে গেল। দাদু বলল আমার দেশের মত এমন অপরূপ। পৃথিবীর কোন দেশে গেলে পাবেনা। সোনার চেয়ে দামি সোনার মতো খাঁটি আমার এই বাংলাদেশ। দাদুর সাথে গল্প করতে করতে একসময় আমরা ঘুমিয়ে পড়ি।

লেখক প্রোফাইল:

BULBUL HOSEN
BULBUL HOSEN
আমি শৈশব থেকে বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের টাংগাইল জেলার কালিহাতী থানার ঘুনিপাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠি। পিতার নামঃ- মোঃ ফ্জলুল হক। মাতাঃ- মোসাঃ মনোয়ারা বেগম। Mail:-bulbulshake36@gmail.com
BULBUL HOSEN

By BULBUL HOSEN

আমি শৈশব থেকে বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের টাংগাইল জেলার কালিহাতী থানার ঘুনিপাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠি। পিতার নামঃ- মোঃ ফ্জলুল হক। মাতাঃ- মোসাঃ মনোয়ারা বেগম। Mail:-bulbulshake36@gmail.com

9 thoughts on “প্রিয় বাংলাদেশ”
  1. Great post. I was checking constantly this blog and I’m impressed! Extremely useful info specifically the last part 🙂 I care for such information much. I was looking for this certain info for a long time. Thank you and best of luck.|

  2. Hello! I know this is kind of off topic but I was wondering if you knew where I could find a captcha plugin for my comment form? I’m using the same blog platform as yours and I’m having difficulty finding one? Thanks a lot!|

  3. Hi there would you mind letting me know which hosting company you’re working with? I’ve loaded your blog in 3 different browsers and I must say this blog loads a lot faster then most. Can you recommend a good hosting provider at a honest price? Many thanks, I appreciate it!|

  4. Greetings from Colorado! I’m bored to death at work so I decided to check out your website on my iphone during lunch break. I love the knowledge you provide here and can’t wait to take a look when I get home. I’m surprised at how fast your blog loaded on my phone .. I’m not even using WIFI, just 3G .. Anyhow, excellent blog!|

  5. Wow, marvelous blog layout! How long have you been blogging for? you make blogging look easy. The overall look of your website is excellent, as well as the content!|

Leave a Reply

Your email address will not be published.