নোটিস :
স্বাগতম “বাংলারকবি ডটকম” জনপ্রিয় ওয়েব সাইটে। আজই আপনার প্রিয় কবিতা-গল্প প্রকাশ করুন আমাদের এই সাইটে। ধন্যবাদ!! প্রয়োজনে-০১৭২৫-১৩৪৪৪৬
নৌকার স্মৃতি

নৌকার স্মৃতি

নৌকার স্মৃতি
মোঃ বুলবুল হোসেন
তারিখঃ ১০-১০-২০২১ ইং

আমার বয়স তখন  দশ বছর। আমাদের বাড়ি চতুর সাইডে ৬ মাস পানি থাকে । বাজার করতে যেতে হলে নৌকা ছাড়া কোন উপায় নাই। আমাদের বাড়ির পাশে বাজার ছিলো। সেখানে  সবকিছু পাওয়া যায়না’ বড় কোন অনুষ্ঠান হলে তিন কিলো দূরত্বে বাজারে যেতে হয় । এদিকে আমার ছোট কাকার বিয়ে। দাদা বলল এতো সব বাজার আমাদের  গ্রামের বাজারে পাওয়া যাবে না। দূরের  বাজার থেকে বাজার করে আনতে হবে। সবাই দাদার কথায় সম্মতি দিল। কারণ দাদার মুখের উপর কথা বলার মত সাহস কারো  ছিলনা। দাদা বললো হাতের কাজটা একটু সেরে নিই। বাড়িতে যতো কাজ ছিল সবগুলো দাদা করতেছিল । দাদার কাজে সাহায্য করতে ছিলাম। দুপুর হয়ে আসতে ছিলো দাদা বললো  দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করে রওনা দিবো। দাদার কাছে বায়না ধরলাম দাদা তোমাদের সাথে আমার নিতে  হবে। দাদা বললো তোমাকে নেওয়া যাবে না  কারণ  দূরের নদীর পথে যেতে হবে আসতে অনেক রাত হবে । যার কারণে দাদারা অনুমতি দিতে রাজী হচ্ছিল না। আমিও ছাড়ার পাত্র ছিলেম না দাদাকে অনেক বুঝিয়ে বললাম দাদা বললো তোমার বাবা যেতে দিবে না । আম্মুকে দিয়ে বাবাকে  বলার পর , তখন বাবা বলল আচ্ছা ঠিক আছে যাও । দুপুরে খাওয়া-দাওয়া সেরে আমি আর দাদা লঞ্চের দিকে এগিয়ে যেতে থাকি। দাদা আমি লঞ্চে উঠে বসলাম  কাকা   নৌকার মাঝি ছিলো।

আমাদের গ্রামে আবুল দাদা  উনাকে নিয়ে রওনা দিলাম । আমরা কাকা নৌকার উপরে হাল ধরে ছিলো আর  বাবা মেশিন স্টাড  দিতে সামনের দিকে নৌকা এগিয়ে যেতে থাকে। কিছুদূর যাওয়ার পর বিলের মাঝখানে প্রচন্ড বাতাসে ঢেউ উঠতে থাকে। আমাদের নৌকাটা একবার উপরে উঠে এবং নিচের দিকে যায় । ঢেউয়ের তালে তালে আমার বুকটা কাঁপতে শুরু করে। কিছু বলতে পারছে  না দাদা। আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে আছে । আমায় বলল ভয় পাস না কিচ্ছু হবে না সব ঠিক আছে। কাকা বলল তোমরা সবাই ভিতর চলে যাও আমি দেখতেছি কি করা যায়। কাকা হাল শক্ত করে ধরে রয়েছে। প্রায় বিশ  মিনিট ঝড়ের কবলে মধ্য দিয়ে যেতে একপর্যায়ে নদীতে এসেপড়ি। তখন সবাই নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল আল্লাহ আপনাকে কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া যে আমরা বেঁচে আছি। এরপর আবার লঞ্চ  এগিয়ে যেতে থাকে ।  দাদার মুখে অনেক কথা শুনতেছি দাদা বাবাকে বলো কি করা যায় । কতজন লোক হবে এ বিষয় নিয়ে বাবা দাদা মধ্যে আলোচনা চলছে আর আমি দাদাকে বললাম তোমরা আলোচনা করো আমি নৌকার উপরে কাকার কাছে  যাবো। দাদা বললো না তুমি ছোট মানুষ পড়ে যাবে । আমি কাকা কে বললাম কাকা তোমার পাশে আসতে চাই । তখন কাকে বলব তোমার দাদু কে   নিয়ে আসো। কাকা দাদু কে বলল পাঠিয়ে দাও না আমি ওকে দেখে রাখবো। দাদা তখন উপরে দিয়ে আসে কাকার কাছে দিয়ে দাদা নিচে চলে যায় । আমি বললাম কাকা আর কত দূর যেতে হবে ।আর বেশি দুর  না এই তো আমরা এসে পরেছি। কাকা কাকির সাথে দেখা করবে না।  কাকা বলল সে কপাল কি আমাদের আছে । আমাদের বংশের নিয়ম মুরুব্বীরা  দেখে যা কে  পছন্দ করবে তাকেই বিয়ে করতে হবে। তোর বাবাও এভাবে করছে। আমারও তাই করতে হবে। তখন কাকাকে বললাম কেন তুমি দেখলে সমস্যা কোথায় কাকা বলল এভাবে দেখার নিয়ম নেই । তাই দেখা যাবে না বিয়ের পর দেখতে হবে।

কাকার সাথে গল্প করতে করতে আমরা বাজারের কাছাকাছি চলে আসি তখন বিকেল হয়ে গেছে। আছরের আযান দিতেছে বাবা, কাকা, দাদা, সবাই নৌকা থেকে নেমে আসে।  নৌকা ঘাটে বাঁধা থাকবে যার কারণে  একজনকে নৌকায় বসিয়ে দিয়ে আসতে হলো ।  দাদা বলল সামনের মসজিদে  নামাজ টা সেরে নেই । তোমরাও আসো   সবাই মিলে নামাজ পড়ে নেই।  নামাজ শেষে আবার রওনা দিলাম বাজারের দিকে একপা দুপা করে বাজারে মাঝখানে এসে পড়েছি।সেখানে  বাবা মেনু  বাহির করে একে একে সব কেনাকাটা শুরু করে। কেনাকাটা করতে করতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেছে টেরই পাইনি ।  বাজারে একজন দোকানদার  তার কাছ থেকে একটি হারিকেন নিয়ে আনতে বলা হলো‌। সেটা গলই সামনে দিয়ে তার পর নৌকা চালাতে হবে। তখন তো আর  টর্চ লাইট কারেন্টে সবকিছু ছিল না । তাই বাধ্য হয়ে একটা হারিকেন আনতে হলো। একটি হারিকেন বাহির করে  আগুন দিয়ে ফ্যানের নিচে রাখা হলো দেখা গেল হারিয়ে ফেলেছেন তখন দোকানদার বলল এই হারিকেন নিয়ে যান আপনারা সমস্যা হবে না। হারিকেন কিনে দাদু বাবাকে বলল আমার নাতিন তাকে নিয়ে কিছু খেয়ে নিও ।বাবা বলল তোমরা দুজনেই খেয়ে আসো । দাদা বললো ঠিক আছে আমার নাতিন আমি নিয়ে যাচ্ছি। দাদা  রুটির দোকান আমাকে নিয়ে গেল। তখন রুটি কেজি হিসাবে বিক্রি করতো । দাদার আমি হাফ কেজি রুটি নিয়ে বসলাম দাদা দুটি মিষ্টি দিল আমাকে। সাথে আরো ছিলো জিলাপি।  মিষ্টি দিয়ে রুটি খেতে শুরু করে দিলাম । রুটি খাওয়া দাওয়া শেষ করে বাবা কাকার জন্য রুটি মিষ্টি নিয়ে লঞ্চ এর  দিকে রওনা দিলাম  আমি আর দাদা।

আল্লাহর নাম নিয়ে  লঞ্চে উঠে পড়লাম । বাবার লঞ্চ  ছেড়ে দিলো। লঞ্চ সামনের দিকে এগোতে থাকলো তখন এশার আজান দিয়ে দিচ্ছে। বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম কিছুদূর যাওয়ার পর কিরম জানি ভয় ভয় কাজ করতেছিলো ।দাদাকে বললাম দাদা আমার ভয় লাগতেছে। দাদা বলল ভয় নেই তুই তো আমার পাশেই আছিছ।  প্রায় আধাঘণ্টা যাওয়ার পর চিতাখোলার পাড়ি দিয়ে যেতে হয় । সেখানে হঠাৎ করে ঝড় শুরু হয়ে গেলো। সামনে গলই  হ্যারিকেন  মিটমিট করে জ্বলতে ছিলো।  দাদা বলল ভয় পেয়ো না সব ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের নৌকায় সামনে দুটি বিড়াল একবার মেও মেও ডাকতে ডাকতে  আমাদের নৌকার দিকে আসতে চায় আবার পিছন দিকে যায়। দেখে আমার শরীর শিহরিত হয়ে উঠল । তখন দাদা বললো ভয় পাস না । আমরা তো আছি  এরপর নৌকাটা তার নিজের গতিতে চলতে ছিলো। তখন দাদা দোয়া দরুদ পড়তে থাকে। ঝড় থামার পর দাদা বললো এই জায়গাটা সত্যিই অনেক খারাপ জায়গা। অনেক নৌকা  ঢুবিয়ে দিয়েছে। রাত্রি করে সহজেই এই নদীর পাশ দিয়ে কেউ যেতে চায় না। তোমরা ভয় পেয়ো না আমাদের বিপদ কেটে গেছে। ভয় ভীতির মাঝে একটা খুব ভালো দিন কাটছিল। আমার  নতুন একটা অভিজ্ঞতা হলো। নৌকা ভ্রমনে এত ভালো কখনো আমার লাগেনি।

লেখক প্রোফাইল:

BULBUL HOSEN
BULBUL HOSEN
আমি শৈশব থেকে বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের টাংগাইল জেলার কালিহাতী থানার ঘুনিপাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠি। পিতার নামঃ- মোঃ ফ্জলুল হক। মাতাঃ- মোসাঃ মনোয়ারা বেগম। Mail:-bulbulshake36@gmail.com
শেয়ার করুন :


3 responses to “নৌকার স্মৃতি”

  1. דירות דיסקרטיות בחיפהאתר למבוגרים הכי טוב בישראל כנסו עכשיו

  2. אני מאוד ממליץ על אתר ישראל נייט קלאב אתר מספר אחד בישראל לחיפוש נערות ליווי, דירות דיסקרטיות,עיסוי אירוטי
    כנסו עכשיו ותראו לבד כמה מידע יש באתר הזה: נערות ליווי בחיפה

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© কপিরাইট© ২০২১  বাংলারকবি.কম
Desing & Developed BY LIONIT.COM.BD