জরূরী ঘোষনা :
বূলবুল প্রকাশনী থেকে ২০২১ সালের বই মেলায় বই প্রকাশ করা হচ্ছে। আগ্রহীগন যোগাযোগ করুন-01768-771825

নৌকার মাঝে
মোঃ বুলবুল হোসেন

বর্ষার পানিতে গ্রামের চতুর্দিকে থইথই করে ।
চতুর দিকে পানি মাঝখানে রাস্তা। পড়ন্ত বিকেলে দখিনা বাতাসে ঢেউ মনে দোলা দিয়ে যায়। সুমন রাস্তায় বসে দক্ষিণা বাতাস উপভোগ করতে ছিল। এমন সময় হাফিজুর এসে বায়না ধরল। চলো ভাইয়া নৌকা নিয়ে ঘুরতে যাব। অনেক দিন হলো পানি আসছে নৌকা নিয়ে ঘুরতে যাইনি।

হাফিজুর বলল ভাই আমাদের সাথে রেজাউল যাবে। চলেন আমরা ঘুরে আসি। সুমন মনে মনে ভাবতে ছিল। নৌকা নিয়ে ঘুরতে যাবে, এরপর তিনজন মিলে নৌকা নিয়ে রওনা দিলো বিলের দিকে। বিলের একটু বর্ণনা দেই। আমাদের বিল সাতটি গ্রামের মাঝখানে। আমাদের গ্রাম থেকে বিলের মাঝখানে যাইতে প্রায় দেড় ঘন্টার মত সময় লাগে। আমরা তিনজনেই নৌকা নিয়ে এক ঘন্টা যাওয়ার পর। দক্ষিণের আকাশে প্রচুর মেঘ জমেছে। এদিকে আষাঢ় মাস, বৃষ্টি কখন আসে কখন যায় বলা যায় না। মনে হচ্ছিল বিলের ঐ পাশে বৃষ্টি পরতেছে। পাশে একটা মেশিনঘর ছিল। মেশিন ঘরের চালের এক হাত নিচে পানি আছে। হাফিজুর বললো চলো ভাই মেশিন ঘরে নৌকাটা বেদে আমরা নিচে বসে থাকি। এরপর আমরা নৌকা নিয়ে কোনো রকম পৌছালাম, মেশিন ঘরের কাছে। কিছুক্ষণ পরে বৃষ্টিটা থেমে গেল। হাফিজুর বলল ভাইয়া চলেন আমরা শাপলা তুলব। যেমন কথা তেমন কাজ হাফিজুর শাপলা তুলতে ব্যস্ত।

রেজাউল বলল আঙ্কেল আমি ঢেপ তুলতেছি। ঢেপ বলতে শাপলার যে ফল থাকে তাকে বলা হয়েছে। আপনি নৌকা ঠিক করে। ঢেপ যেদিকে আছে সেদিকে দেন। তিনজনে মিলে অনেক মজা করে শাপলা খেলাম। এদিকে রেজাউল বলল আঙ্কেল তেতুল খাব, চলেন তেতুল পেড়ে নিয়ে আসি। বিলের এক পাশে চড়ার মাঝখানে একটি তেঁতুল গাছ। এই গাছটি এত পুরানো কেউ বলতে পারেনা এর বয়স কত? আমি আমার বাবার কাছ থেকে শুনেছি। তিনি বোজমান হওয়ার পর এরকমই দেখেছেন। বাবা দাদাকে জিজ্ঞেস করছিল।এই তেতুল গাছটায় বয়স কত? দাদা উত্তরে বলেছিলেন আমি যখন থেকে বুঝি, তখন থেকে গাছটা এরকমই দেখতেছি।যাইহোক ভাতিজার বায়না তো পূরণ করতে হবে। আমরা তিনজন মিলে নৌকা নিয়ে গাছের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলাম।

প্রায় আধা ঘন্টা পর গাছের কাছে পৌঁছলাম। এদিকে হঠাৎ করে কেমন যেন বাতাস আসতে শুরু করল। ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। আমরা সবাই কোনরকম গাছের নিচে আশ্রয় নিলাম। এদিকে জায়গাটা কিরম ছমছম পরিবেশ বিরাজ করতেছে। ঝড় বৃষ্টি হওয়ার পর কোনরকম বৃষ্টি থেমে গেল। অল্প তেতুল গাছ থেকে পেড়ে আবার নৌকা তে উঠে পরলাম। প্রচুর বাতাস হইতেছে। বাসের নগি/লাঠি বৈঠা দিয়ে কোনরকমে যেন যাওয়া যাচ্ছে সামনের দিকে।এত বড় বড় ঢেউ যে নৌকা ডুবে যাবে মনে হয়। ঢেউয়ে নৌকা টা চার পাঁচ হাত উপরে উঠে, আবার নিচে ছেড়ে দিচ্ছে। ভয়ে সবার বুকটা কাঁপতেছে। এবার বোধ হয় নৌকা ডুবে যাবে। অনেক কষ্টে নৌকাটা নিয়ে বাড়িতে পৌছালাম। সত্যিই আমরা অনেক ভয় পেয়েছিলাম। যা আগে কখনো পাইনি।

লেখক প্রোফাইল:

BULBUL HOSEN
BULBUL HOSEN
আমি শৈশব থেকে বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের টাংগাইল জেলার কালিহাতী থানার ঘুনিপাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠি। পিতার নামঃ- মোঃ ফ্জলুল হক। মাতাঃ- মোসাঃ মনোয়ারা বেগম। Mail:-bulbulshake36@gmail.com
BULBUL HOSEN

By BULBUL HOSEN

আমি শৈশব থেকে বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের টাংগাইল জেলার কালিহাতী থানার ঘুনিপাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠি। পিতার নামঃ- মোঃ ফ্জলুল হক। মাতাঃ- মোসাঃ মনোয়ারা বেগম। Mail:-bulbulshake36@gmail.com

7 thoughts on “নৌকার মাঝে”
  1. That is a really good tip particularly to those new to the blogosphere. Simple but very precise info… Thanks for sharing this one. A must read post!|

  2. Hi there, You’ve performed a fantastic job. I will definitely digg it and individually suggest to my friends. I am confident they’ll be benefited from this web site.|

  3. I have been surfing online more than 2 hours today, yet I never found any interesting article like yours. It’s pretty worth enough for me. In my view, if all site owners and bloggers made good content as you did, the net will be a lot more useful than ever before.|

  4. Howdy just wanted to give you a brief heads up and let you know a few of the pictures aren’t loading correctly. I’m not sure why but I think its a linking issue. I’ve tried it in two different browsers and both show the same outcome.|

Leave a Reply

Your email address will not be published.